কাজ করতে করতে খিদে? অফিসের ড্রয়ারে রাখুন এই ৫টি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স, বিদায় দিন ভাজাভুজিকে

কাজ করতে করতে খিদে? অফিসের ড্রয়ারে রাখুন এই ৫টি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স, বিদায় দিন ভাজাভুজিকে

কাজ করতে করতে খিদে? অফিসের ড্রয়ারে রাখুন এই ৫টি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স, বিদায় দিন ভাজাভুজিকে 2

অফিসে মন দিয়ে কাজ করছেন, হঠাৎ ঘড়িতে দেখলেন বিকেল ৪টে বেজে ১০। ব্যাস! পেট বাবাজী জানান দিতে শুরু করলেন যে তাঁর কিছু চাই। এই সময়টাতেই আমাদের সবচেয়ে বেশি ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অফিসের ক্যান্টিন বা পাশের দোকান থেকে চপ, সিঙারা, চিপস বা বিস্কুটের মতো ভাজাভুজি বা ময়দার খাবার আমরা খেয়ে ফেলি।

ফলাফল? সাময়িক তৃপ্তি হলেও একটু পরেই শুরু হয় বুক জ্বালা, অম্বল আর মারাত্মক ঘুম ঘুম ভাব (যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘Food Coma’ বলা হয়)। এতে কাজের উদ্যম যেমন কমে, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে শরীরের বারোটা বাজে।

তাহলে উপায়? উপায় হলো বুদ্ধি খাটিয়ে অফিসের ড্রয়ার বা ব্যাগে এমন কিছু স্ন্যাক্স মজুত রাখা, যা স্বাস্থ্যকর এবং যা খেলে আপনার এনার্জি বাড়বে, ঘুম আসবে না। আসুন জেনে নিই তেমনই ৫টি স্ন্যাক্স অপশন যা সর্বদা আপনার হাতের কাছে রাখা উচিত।

১. বাদাম এবং শুকনো ফলের ম্যাজিক (Nuts & Dry Fruits)

অফিসের স্ন্যাক্স হিসেবে বাদাম এবং শুকনো ফলের কোনো বিকল্প নেই। এগুলো ডেস্কে রাখার জন্য সেরা কারণ এগুলো সহজে নষ্ট হয় না এবং অল্প খেলেই পেট ভরে যায়।

  • আমন্ড (কাঠবাদাম) ও আখরোট: এগুলোকে বলা হয় ‘ব্রেন ফুড’। এক মুঠো আমন্ড বা আখরোট খেলে তা আপনার স্মৃতিশক্তি ও মনঃসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে।
  • কাজুবাদাম ও পেস্তা: খেতে সুস্বাদু, তবে খাওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন যেন সেগুলো অতিরিক্ত নুন দেওয়া (Salted) না হয়। ড্রাই রোস্টেড বা প্লেন বাদামই সেরা।
  • খেজুর ও কিশমিশ: যদি কাজের চাপে মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে (Sugar Craving) জাগে, তবে ২-৩টি খেজুর বা এক মুঠো কিশমিশ খেয়ে নিন। এটি আপনাকে তাৎক্ষণিক এনার্জি দেবে এবং চিনির ক্ষতি থেকেও বাঁচাবে।

২. মচমচে কিন্তু তেলহীন: রোস্টেড ছোলা এবং মাখানা

অনেকের অভ্যাস কাজ করতে করতে মুখে কিছু না কিছু দেওয়া। এই ‘Munching’-এর অভ্যাসের জন্য চিপস বা ঝুড়িভাজার বদলে বেছে নিন স্বাস্থ্যকর রোস্টেড স্ন্যাক্স।

  • রোস্টেড ছোলা (Roasted Chana): এটি প্রোটিন এবং ফাইবারের পাওয়ার হাউস। এক বাটি রোস্টেড ছোলা খেলে দীর্ঘ সময় খিদে পাবে না। নুন ছাড়া বা সামান্য মশলা দেওয়া ছোলা ড্রয়ারে রাখতে পারেন।
  • মাখানা (Fox Nuts): চিপসের সেরা বিকল্প হলো মাখানা। এটি লো-ক্যালোরি অথচ পুষ্টিগুণে ভরপুর। সামান্য ঘি বা অলিভ অয়েলে রোস্ট করে তাতে গোলমরিচ ও নুন ছড়িয়ে এয়ারটাইট কৌটোয় ভরে নিন।

৩. প্রকৃতির উপহার: ফ্রেশ ফল (Fresh Fruits)

ফলের চেয়ে ভালো এবং সতেজ স্ন্যাক্স আর কিছু হতে পারে না। টিফিনের সময় বা বিকেলের দিকে ফল খাওয়া খুব উপকারী।

  • কলা: অফিস যাওয়ার পথে অনায়াসেই ১-২টি কলা কিনে ব্যাগে রাখা যায়। এটি ক্লান্তি দূর করে দ্রুত এনার্জি ফিরিয়ে আনতে সেরা।
  • আপেল: আপেল খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন। এটি ফাইবার সমৃদ্ধ, তাই অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখে।
  • পেয়ারা: যদি ডেস্কে বসে কামড়ে খাওয়ার সুযোগ থাকে, তবে পেয়ারা দারুণ অপশন। ভিটামিন-সি এবং ফাইবারের খুব ভালো উৎস।

৪. মুড়ি বা চিঁড়ে ভাজা (ঘরোয়া স্ন্যাক্স)

বাঙালিদের প্রিয় এবং সবচেয়ে হালকা স্ন্যাক্স হলো মুড়ি। এটি পেট ঠান্ডা রাখে এবং হজমেও সুবিধে করে।

  • একটি কৌটোয় তেল ছাড়া শুকনো খোলায় ভাজা মুড়ি আর কিছুটা রোস্টেড চিনাবাদাম মিশিয়ে রাখুন। খিদে পেলেই সামান্য একটু খেয়ে নিন।
  • একইভাবে শুকনো খোলায় ভাজা চিঁড়ে বা ওটসও ডেস্কে রাখা যেতে পারে। এগুলো ক্যালোরিতে খুব কম কিন্তু পেট ভরাতে সক্ষম।

৫. প্রোটিন প্যাকড: সেদ্ধ ডিম বা দই (যদি সুবিধা থাকে)

যদি আপনার অফিসে ফ্রিজ থাকে, তবে এই অপশনগুলো আপনার জন্য দুর্দান্ত।

  • সেদ্ধ ডিম: সকালে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ২টো ডিম সেদ্ধ করে টিফিন বক্সে নিয়ে নিন। অফিসের টিফিন টাইমে বা মারাত্মক খিদে পেলে ১টি ডিম খেয়ে নিন। এটি আপনাকে দীর্ঘ সময় ফুল এনার্জিতে রাখবে।
  • টক দই (Yogurt): ছোট কাপের টক দই বা ফ্লেভারড যোগার্ট (কম চিনিযুক্ত) ফ্রিজে রাখতে পারেন। এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং পেট ঠান্ডা রাখে।

শেষ কিছু কথা এবং একটি বোনাস টিপস

অফিসে কাজ করার সময় আমরা অনেক সময় তৃষ্ণাকে খিদে বলে ভুল করি। তাই যখনই খিদে পাবে, স্ন্যাক্স খাওয়ার আগে এক গ্লাস জল পান করুন। অনেক সময় এতেই খিদে কমে যায়। তাছাড়া সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করা এনার্জি বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

আজই আপনার অফিসের ড্রয়ার থেকে বিস্কুট আর চিপসের প্যাকেট সরিয়ে ফেলুন এবং এই স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো জায়গা দিন। দেখবেন কাজ করার উদ্যম বেড়ে গেছে এবং দিনের শেষে আপনি কম ক্লান্ত অনুভব করছেন। সুস্থ থাকুন, ভালো কাজ করুন!

Scroll to Top