
(আউটডোর স্টাডি: রঙিন পেনসিল দিয়ে প্রকৃতি থেকে সরাসরি ল্যান্ডস্কেপ স্কেচ করার সহজ কৌশল। ছবি: আকাশ, গাছ, নদী, পাহাড়। লাইভ স্কেচিং। | Landscape Sketching)
আর্ট টিউটোরিয়াল সিরিজের গত পর্বে আমরা শিখেছি কীভাবে গ্রাফাইট পেন্সিল ব্যবহার করে প্রকৃতি থেকে সরাসরি আউটডোর স্টাডি বা ল্যান্ডস্কেপ স্কেচিং (Landscape Sketching) করতে হয়। আমরা কম্পোজিশন, পরিপ্রেক্ষিত (perspective), টোনাল ভ্যালু (tonal value) এবং টেক্সচার (texture) ধরতে শিখেছি। আজকের পর্ব ০৭-এ আমরা গ্রাফাইট পেন্সিলের একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে আসব এবং শিখব রঙিন পেনসিল ব্যবহার করে কীভাবে ছবিতে প্রাণবন্ত রং এবং আলো-ছায়া ফুটিয়ে তোলা যায়। সরাসরি প্রকৃতি থেকে আঁকা একজন শিল্পীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং হাতকে সাবলীল করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।

(Image 1: ল্যান্ডস্কেপ স্কেচিংয়ের জন্য ‘রুল অফ থার্ডস’ (Rule of Thirds) এবং ‘দিগন্ত রেখা’ (Horizon Line) চিহ্নিত করা হয়েছে। একটি সাধারণ ল্যান্ডস্কেপ কম্পোজিশন দেখানো হয়েছে।)
কালার পেন্সিল দিয়ে ল্যান্ডস্কেপ স্কেচিংয়ের প্রথম ধাপ হলো সঠিক কম্পোজিশন নির্বাচন। ছবিতে গভীরতা তৈরি করতে আপনি ৬ নং পর্বে শেখা ‘রুল অফ থার্ডস’ (Rule of Thirds) এবং ‘দিগন্ত রেখা’ (Horizon Line) এর অবস্থান এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। দিগন্ত রেখাকে কখনও ছবির ঠিক মাঝখানে না রেখে, উপরের বা নিচের এক-তৃতীয়াংশে রাখুন, যাতে ছবিটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ দেখায়।

(Image 2: দিগন্তের দিকে একটি আঁকাবাঁকা নদী বা রাস্তা চলে গেছে, যা এক-বিন্দু পরিপ্রেক্ষিতের (One-Point Perspective) নিয়ম মেনে আঁকা হয়েছে।)
আউটডোরে গেলে পরিপ্রেক্ষিত বা পার্সপেক্টিভ আরও বাস্তবসম্মতভাবে ধরা যায়। দূরে মিলিয়ে যাওয়া একটি নদী, রাস্তা বা সারিবদ্ধ গাছ আঁকার সময় ২ নং পর্বের এক-বিন্দু পরিপ্রেক্ষিতের (One-Point Perspective) এবং ৬ নং পর্বের পরিপ্রেক্ষিতের নিয়ম (Perspective rules) প্রয়োগ করুন। ছবিতে গভীরতা তৈরি করতে আপনি ‘অ্যারিয়াল পরিপ্রেক্ষিত’ (Aerial Perspective) ব্যবহার করতে পারেন—দূরের পাহাড় বা গাছগুলো সামনের বস্তুর তুলনায় ছোট, অস্পষ্ট এবং হালকা টোনে (tone) আঁকুন।

(Image 3: একটি আউটডোর দৃশ্যে বিভিন্ন ধরণের ল্যান্ডস্কেপ উপাদান—আকাশ, গাছ, পাহাড়, নদী—আঁকার সময় টোনাল ভ্যালু (Tonal Value) এবং টেক্সচারের (Texture) সঠিক ব্যবহার দেখানো হয়েছে।)
প্রকৃতিতে অনেক ধরণের টেক্সচার (texture) থাকে। যেমন গাছের পাতা, জলের ঢেউ, পাহাড়ের পাথর। এগুলো ফুটিয়ে তোলার জন্য ৩ নং পর্বের শেডিং টেকনিক (Shading Technique) এবং ৬ নং পর্বের টোনাল ভ্যালু এবং টেক্সচারের নিয়ম (Tonal Value and Texture rules) ব্যবহার করুন। কালার পেন্সিল দিয়ে আঁকার সময় শুধু আউটলাইন না এঁকে, টোন বা আলো-ছায়ার প্রলেপ দিয়ে বস্তুর আকার ফুটিয়ে তুলুন। ছবির সামনের অংশের (foreground) বস্তুগুলোতে বেশি ডিটেইল এবং গাঢ় টেক্সচার দিন, আর দূরের অংশে হালকা শেডিং দিন। জলের প্রতিচ্ছবি আঁকার সময় উপরের বস্তুর উল্টো প্রতিচ্ছবি আঁকুন, এবং টোন কিছুটা হালকা রাখুন।

(Image 4: একটি জটিল কম্পোজিশনে একাধিক মানুষের জেসচার এবং মুভমেন্টের সঠিক ব্যবহার ল্যান্ডস্কেপের সাথে সমন্বয় করে দেখানো হয়েছে।)
যদিও আপনি ল্যান্ডস্কেপ আঁকছেন, কিন্তু ছবিতে মানুষ বা প্রাণী যোগ করলে তাতে জীবন সঞ্চার হয় এবং ছবিটি আরও গল্পময় মনে হয়। ৫ নং পর্বের জেসচার ড্রয়িং (Gesture Drawing) এবং শরীরের অনুপাত (proportions) ব্যবহার করে দূরের মানুষকে ল্যান্ডস্কেপের স্কেলের (scale) সাথে সমন্বয় করে আঁকুন। তারা কী কাজ করছে বা কোন দিকে তাকিয়ে আছে, তা ছবির সামগ্রিক মুভমেন্টের (movement) সাথে মিলিয়ে দিন।

(Image 5: একটি স্টিল লাইফ এবং মানুষের পোর্ট্রেটের সমন্বয়, যেখানে আলোর উৎস অনুযায়ী মানুষের মুখে আলো-ছায়া ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ল্যান্ডস্কেপে আলো-ছায়ার খেলা দেখানো হয়েছে।)
আউটডোর স্কেচিংয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিবর্তনশীল আলো। ৩ নং পর্বের আলো-ছায়ার নিয়ম (Light and Shadow) এবং ৬ নং পর্বের আলো-ছায়ার নিয়ম (Light and Shadow rules) এখানে খুব সতর্কভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ছবির একটি নির্দিষ্ট দিক থেকে আলো আসছে বলে ধরে নিন। সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী বস্তুর ছায়া (cast shadow) এবং নিজের ছায়া (core shadow) চিহ্নিত করুন। মেঘলা দিন বা রোদের তফাৎ অনুযায়ী টোনাল ভ্যালু (tonal value) নিয়ন্ত্রণ করুন। ছবির উজ্জ্বল অংশে পেন্সিলের হালকা প্রেশারে (HB বা 2B) এবং গাঢ় ছায়ায় (4B বা 6B) প্রেশার দিন। কালার পেন্সিলের ব্যবহার করে আমরা কীভাবে আলো-ছায়া ফুটিয়ে তুলতে পারি, তা আমরা এই পর্বে বিস্তারিতভাবে দেখব।
কালার পেন্সিলের ব্যবহার আপনার শিল্পবোধকে আরও উন্নত করবে। শুরুতে নিখুঁত ছবি আঁকার চেষ্টা না করে, দ্রুত স্কেচ করে বস্তুর গঠন এবং কম্পোজিশন ধরার প্র্যাকটিস করুন। পরবর্তী পর্বে আমরা শিখব কীভাবে রঙিন পেন্সিল দিয়ে প্রকৃতি থেকে আঁকা ছবিগুলোকে আরও জীবন্ত করা যায়। আঁকতে থাকুন, কারণ প্রতিটি রেখাই আপনাকে একজন দক্ষ শিল্পী হওয়ার পথে এগিয়ে দিচ্ছে।









