১৫ আগস্ট ভারতের ইতিহাসে শুধু একটি তারিখ নয়। এটি একটি দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, আন্দোলন এবং অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন পূরণের প্রতীক। প্রতি বছর ১৫ আগস্ট ভারতজুড়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশাত্মবোধক কর্মসূচি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়।
কিন্তু ১৫ আগস্টের এই উৎসবের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এবং জটিল ইতিহাস। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বহু দশকের রাজনৈতিক আন্দোলন, গণপ্রতিবাদ, অসহযোগ, সত্যাগ্রহ, বিপ্লবী কর্মকাণ্ড, শ্রমিক-কৃষকের আন্দোলন, ছাত্র-যুবসমাজের অংশগ্রহণ এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রভাব—সব মিলিয়ে ভারতের স্বাধীনতার পথ তৈরি হয়েছিল।
ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৪৭ সালের Indian Independence Act-এর মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন Dominion প্রতিষ্ঠার আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। কিন্তু স্বাধীনতার আনন্দের পাশাপাশি ১৯৪৭ সালের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের উদ্বাস্তু জীবনের গভীর বেদনা।

ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাস বুঝতে হলে আমাদের ব্রিটিশ শাসনের সূচনার দিকে ফিরে তাকাতে হবে। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক ক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার দেওয়ানি লাভের পর কোম্পানি রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা অর্জন করে। ধীরে ধীরে কোম্পানির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হতে থাকে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সময় ভারতীয় সমাজ ও অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা, বাণিজ্যিক নীতি এবং দেশীয় শিল্পের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি হয়। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই বিদ্রোহকে দীর্ঘদিন ধরে সিপাহি বিদ্রোহ নামে উল্লেখ করা হলেও এর বিস্তার কেবল সেনাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ, শাসক, জমিদার, কৃষক এবং অন্যান্য সামাজিক গোষ্ঠীও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে অংশ নেন।
দিল্লি, কানপুর, লখনউ, ঝাঁসি এবং মধ্যভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। কিন্তু এর ফলে ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পারে যে ভারতের ওপর কোম্পানির শাসন আর আগের মতো চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ১৮৫৮ সালের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিবর্তে ভারতের শাসন সরাসরি ব্রিটিশ ক্রাউনের হাতে চলে যায়।
এরপর ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়। পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তার, সংবাদপত্রের বিকাশ, নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের ফলে ভারতীয় সমাজে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। মানুষ ধীরে ধীরে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে—কেন একটি বিদেশি শক্তি ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে?
১৮৮৫ সালে Indian National Congress প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমদিকে কংগ্রেসের অনেক নেতা সাংবিধানিক পদ্ধতিতে প্রশাসনিক সংস্কার, ভারতীয়দের অধিকতর প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক অধিকার দাবি করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেসের রাজনৈতিক দাবি আরও শক্তিশালী হয় এবং শেষ পর্যন্ত পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি সামনে আসে।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে। লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। স্বদেশি আন্দোলন, বিদেশি পণ্য বর্জন, দেশীয় শিল্পের প্রসার এবং জাতীয় শিক্ষার প্রচেষ্টা নতুন রাজনৈতিক চেতনার জন্ম দেয়।
বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক প্রতিবাদ ছিল না। এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, অর্থনীতি এবং সংস্কৃতির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছিল। স্বদেশি আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষ বুঝতে শুরু করেছিল যে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯১৯ সালে ঘটে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড। অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে নিরস্ত্র মানুষের ওপর ব্রিটিশ সেনাদের গুলিচালনা ভারতীয়দের মধ্যে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করে। এই ঘটনা ব্রিটিশ শাসনের প্রতি মানুষের আস্থাকে আরও দুর্বল করে দেয়।
এর পরেই ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গান্ধীর রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিল সত্যাগ্রহ এবং অহিংস প্রতিরোধ। তাঁর বিশ্বাস ছিল, সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত না করলে একটি বৃহৎ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সফল সংগ্রাম সম্ভব নয়।
১৯২০ সালে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশি পণ্য এবং ঔপনিবেশিক প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।
এই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত স্বাধীনতার ধারণা ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
তবে স্বাধীনতা আন্দোলনের সব ধারা একরকম ছিল না। গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিপ্লবী সংগঠনও সক্রিয় ছিল। বাংলায় অনুশীলন সমিতি, যুগান্তরসহ বিভিন্ন বিপ্লবী সংগঠন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কাজ করেছিল।
ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী, বাঘা যতীন, মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং আরও বহু বিপ্লবী তরুণ স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন আন্দোলন বাংলার বিপ্লবী ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করেন।
অর্থাৎ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল বহুমাত্রিক। কেউ অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছিলেন, কেউ বিপ্লবী সংগ্রামের পথ, আবার কেউ রাজনৈতিক সংগঠন, সংবাদপত্র, শিক্ষা বা সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তুলেছিলেন।
১৯২৯ সালের লাহোর অধিবেশন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এখানে পূর্ণ স্বাধীনতাকে জাতীয় আন্দোলনের লক্ষ্য হিসেবে সামনে আনা হয়।
১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করার আহ্বান জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে ২৬ জানুয়ারি তারিখটি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব লাভ করে।
১৯৩০ সালে শুরু হয় লবণ সত্যাগ্রহ বা ডান্ডি অভিযান। লবণের মতো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় একটি জিনিসের ওপর ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ এবং করের বিরুদ্ধে গান্ধী প্রতিবাদ করেন। এই আন্দোলন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আইন অমান্য আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সুভাষচন্দ্র বসু বিশ্বাস করতেন যে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আরও প্রত্যক্ষ এবং সামরিক সংগ্রাম প্রয়োজন। তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজ বা Indian National Army-এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং বিদেশে অবস্থান করে ভারতের স্বাধীনতার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করেন।
আজাদ হিন্দ ফৌজ সামরিকভাবে শেষ পর্যন্ত ভারতকে স্বাধীন করতে পারেনি। কিন্তু এর রাজনৈতিক ও মানসিক প্রভাব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেতাজির নেতৃত্বে স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের যে আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছিল, তা ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন অংশে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আজাদ হিন্দ ফৌজের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হলে ভারতে তাঁদের সমর্থনে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এই ঘটনাগুলির গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। কারণ ব্রিটিশ প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠছিল যে ভারতের জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ক্রমশ গভীর হচ্ছে।
১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের পূর্ণ সম্মতি ছাড়াই ভারতকে যুদ্ধে যুক্ত করে। যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যবৃদ্ধি এবং খাদ্যসংকট বাড়তে থাকে।
১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষও এই সময়ের একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। লক্ষ লক্ষ মানুষ খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষের কারণে প্রাণ হারান। এই দুর্ভিক্ষ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক অর্থনৈতিক নীতি এবং যুদ্ধকালীন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গভীর বিতর্ক তৈরি করে।
১৯৪২ সালে শুরু হয় ভারত ছাড়ো আন্দোলন। ৮ আগস্ট ১৯৪২ বোম্বেতে All India Congress Committee-এর সভায় ব্রিটিশ শাসনের অবসানের জন্য ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মহাত্মা গান্ধী “Do or Die” আহ্বান জানান।
পরদিনই ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে। কিন্তু নেতৃত্বকে গ্রেফতার করেও আন্দোলনকে সম্পূর্ণভাবে থামানো যায়নি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ প্রতিবাদ, ধর্মঘট, মিছিল এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধে অংশ নেন।
বাংলাতেও ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রভাব ছিল গভীর। মেদিনীপুরের তমলুক ও কাঁথি অঞ্চলে আন্দোলনকারীরা ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প হিসেবে সমান্তরাল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। সাধারণ মানুষ, কৃষক এবং স্থানীয় আন্দোলনকারীদের অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছিল।
বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিক ও ছাত্রসমাজও স্বাধীনতার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। স্বাধীনতার সংগ্রাম তাই শুধু বড় শহরের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। গ্রামের মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র এবং সাধারণ পরিবারগুলিও এই সংগ্রামের অংশ হয়ে উঠেছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে ব্রিটেন অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। একই সময়ে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছিল।
১৯৪৬ সালে Royal Indian Navy Mutiny বা নৌবিদ্রোহ ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে ওঠে। বোম্বে থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ পরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের মধ্যে ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে মতপার্থক্য আরও তীব্র হয়। মুসলিম লীগ পাকিস্তানের দাবি জোরালো করে। ভারতকে একত্রে রাখার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে।
কিন্তু রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। ১৯৪৬ সালের Direct Action Day-এর পর কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটে। পরবর্তী সময়ে নোয়াখালি, বিহার, পাঞ্জাবসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও দাঙ্গা ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতকে একক রাষ্ট্র হিসেবে রাখার সম্ভাবনা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
১৯৪৭ সালের ৩ জুন লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত ভাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন Dominion প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলা ও পাঞ্জাবও বিভক্ত হয়। বাংলার এক অংশ হয় পশ্চিমবঙ্গ, যা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। অন্য অংশ পূর্ববঙ্গ নামে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত হয়।
এই বিভাজন ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলে যেতে বাধ্য হন। কেউ পূর্ববঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসেন, আবার কেউ পশ্চিমবঙ্গ থেকে পূর্ববঙ্গে চলে যান।
অনেক পরিবার তাদের পূর্বপুরুষের বাড়ি, জমি, ব্যবসা এবং পরিচিত সামাজিক পরিবেশ হারিয়ে ফেলেন। এই কারণেই ১৫ আগস্ট ১৯৪৭-এর ইতিহাসের সঙ্গে আনন্দের পাশাপাশি দেশভাগের বেদনাও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
স্বাধীনতার আগের রাতটি ছিল ভারতীয় ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। ১৪ আগস্টের গভীর রাতে দিল্লির Constituent Assembly-তে স্বাধীন ভারতের জন্মের প্রস্তুতি চলছিল।
জওহরলাল নেহরু সেই ঐতিহাসিক অধিবেশনে তাঁর বিখ্যাত “Tryst with Destiny” ভাষণ দেন। তিনি স্বাধীনতাকে শুধু ব্রিটিশ শাসনের অবসান হিসেবে দেখেননি। তাঁর বক্তব্যে স্বাধীন ভারতের মানুষের দায়িত্ব, দারিদ্র্য দূরীকরণ, অজ্ঞতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের কথা উঠে আসে।
অর্থাৎ স্বাধীনতা ছিল একটি নতুন যাত্রার সূচনা।
মধ্যরাতে ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৫ আগস্ট ১৯৪৭-এর সকাল ছিল স্বাধীন ভারতের প্রথম সকাল।

স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জওহরলাল নেহরু ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ দিল্লির লালকেল্লার লাহোরি গেটের ওপর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
পরবর্তী সময়ে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়।
কিন্তু ১৫ আগস্ট ১৯৪৭-এর সেই প্রথম সকালে ভারতের সামনে ছিল অসংখ্য কঠিন সমস্যা। দেশভাগের উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থামাতে হবে। দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে হবে। খাদ্যসংকট মোকাবিলা করতে হবে। দারিদ্র্য ও অশিক্ষা দূর করার পরিকল্পনা করতে হবে। দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। একটি নতুন সংবিধান তৈরি করতে হবে এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তাই স্বাধীনতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্র নির্মাণের কাজও শুরু হয়ে যায়।
স্বাধীনতার ইতিহাসে সাধারণ মানুষের অবদান বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য। অনেক মানুষ জেলে গিয়েছিলেন। অনেকে চাকরি হারিয়েছিলেন। অনেকে সম্পত্তি হারিয়েছিলেন। অনেকে ব্রিটিশ পুলিশের অত্যাচার সহ্য করেছিলেন। অনেকে আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছিলেন।
অনেক নারী পরিবার ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সীমা অতিক্রম করে স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। সরোজিনী নাইডু, অরুণা আসফ আলি, কস্তুরবা গান্ধী, কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়, মাতঙ্গিনী হাজরা, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বীণা দাস এবং আরও বহু নারী স্বাধীনতার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বাংলার মাতঙ্গিনী হাজরা ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তাঁর আত্মত্যাগ তাঁকে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম স্মরণীয় চরিত্রে পরিণত করেছে।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারও ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্র।
এই ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কোনও একক ব্যক্তি বা একটি রাজনৈতিক সংগঠনের অর্জন ছিল না। এটি ছিল বহু মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল।
কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, নারী, যুবক, সাংবাদিক, আইনজীবী, বিপ্লবী, রাজনৈতিক কর্মী, সৈনিক এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ কোনো না কোনোভাবে স্বাধীনতার আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিলেন।
স্বাধীনতার পর ভারতের সামনে আরেকটি বিশাল কাজ ছিল দেশীয় রাজ্যগুলির একীকরণ। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের সময় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু দেশীয় রাজ্য ছিল।
সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং ভি.পি. মেননের নেতৃত্বে এই রাজ্যগুলির অধিকাংশকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ এগিয়ে যায়।
হায়দরাবাদ, জুনাগড় এবং কাশ্মীরের মতো কয়েকটি রাজ্যের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিশেষভাবে জটিল ছিল।
ফলে ১৫ আগস্ট ১৯৪৭-এ স্বাধীনতা অর্জনের পরও ভারতের রাজনৈতিক একীকরণের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যায়নি।
এখানেই বোঝা যায়—স্বাধীনতা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হলেও রাষ্ট্র নির্মাণ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
ভারতের সংবিধান তৈরির কাজও স্বাধীনতার পরবর্তী ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। Constituent Assembly দীর্ঘ আলোচনা, বিতর্ক এবং সংশোধনের পর ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ ভারতের সংবিধান গ্রহণ করে।
১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি সংবিধান কার্যকর হয় এবং ভারত একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়।
এই কারণে ১৫ আগস্ট এবং ২৬ জানুয়ারির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ১৫ আগস্ট হলো ভারতের স্বাধীনতা দিবস। ২৬ জানুয়ারি হলো ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস।
১৫ আগস্ট আমাদের ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জনের কথা মনে করিয়ে দেয়। ২৬ জানুয়ারি স্বাধীন ভারতের সংবিধান ও প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাকে স্মরণ করে।
স্বাধীনতার পর ভারত গণতান্ত্রিক পথ বেছে নেয়। বহু ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী নিয়ে একটি বিশাল দেশকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ।
কিন্তু ভারত সংবিধান, নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যেতে থাকে।
আজ ১৫ আগস্ট ভারতের স্কুল, কলেজ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন এবং আবাসিক এলাকায় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করা হয়। দেশাত্মবোধক গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দিল্লির লালকেল্লা থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানগুলি আমাদের ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানকে যুক্ত করে।

কিন্তু স্বাধীনতা দিবস কি শুধুই পতাকা উত্তোলন এবং দেশাত্মবোধক গান শোনার দিন? নিশ্চয়ই নয়।
স্বাধীনতা দিবসের প্রকৃত গুরুত্ব বুঝতে হলে স্বাধীনতার ইতিহাস জানা প্রয়োজন।
স্বাধীনতার অর্থ শুধু বিদেশি শাসনের অবসান নয়। স্বাধীনতার অর্থ নিজের ভবিষ্যৎ নিজের হাতে নেওয়ার অধিকার। স্বাধীনতার অর্থ মানুষের মর্যাদা। স্বাধীনতার অর্থ নাগরিক অধিকার। স্বাধীনতার অর্থ গণতন্ত্র। স্বাধীনতার অর্থ আইনের শাসন। স্বাধীনতার অর্থ মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
তবে স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বও জড়িত। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে।
আইন মেনে চলা, অন্যের অধিকারকে সম্মান করা, দেশের সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষা করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন থাকা, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা থেকে দূরে থাকা, ভিন্ন মতের মানুষকে সম্মান করা, শিক্ষা ও জ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়া এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করা—এসবও স্বাধীনতার অংশ।
কারণ একটি দেশের স্বাধীনতা তখনই অর্থপূর্ণ হয়, যখন তার নাগরিকরা সেই স্বাধীনতার মূল্যবোধকে দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়িত করে।
১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার সঙ্গে দেশভাগের যে বেদনা জড়িয়ে ছিল, সেটিও আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়। স্বাধীনতার আনন্দের পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু মানুষের কষ্ট ছিল বাস্তব।
কেউ রাতারাতি নিজের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। কেউ রেলগাড়িতে করে অজানা শহরের দিকে রওনা হয়েছিলেন। কেউ নতুন দেশে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন। অনেকে আর কখনও নিজেদের পূর্বপুরুষের বাড়িতে ফিরে যেতে পারেননি।
দেশভাগের এই মানবিক ইতিহাস আমাদের শেখায় যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা গভীর হতে পারে।
তাই স্বাধীনতার ইতিহাসকে শুধু বিজয়ের গল্প হিসেবে নয়, মানুষের অভিজ্ঞতার ইতিহাস হিসেবেও দেখা উচিত।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বাংলার ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পলাশীর যুদ্ধ থেকে বঙ্গভঙ্গবিরোধী স্বদেশি আন্দোলন, বিপ্লবী আন্দোলন, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার অভিযান, ভারত ছাড়ো আন্দোলন এবং স্বাধীনতার পূর্ববর্তী রাজনৈতিক আন্দোলন—বাংলা বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ক্ষুদিরাম বসু থেকে মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার থেকে মাতঙ্গিনী হাজরা—বাংলার বহু মানুষ স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন।
এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে ১৫ আগস্টের স্মৃতি বিশেষ আবেগপূর্ণ।
স্বাধীনতার পর ভারত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, চিকিৎসা এবং মহাকাশ গবেষণাসহ বহু ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে।
কিন্তু স্বাধীনতার স্বপ্ন এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়নি। কারণ একটি দেশ যতই উন্নত হোক, মানুষের জীবনযাত্রার মান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায় এবং সমান সুযোগের প্রশ্ন সবসময় গুরুত্বপূর্ণ থাকে।
স্বাধীনতার অর্থ তাই একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিটি প্রজন্মকে নিজের সময়ের সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়।
১৯৪৭ সালের প্রজন্মের সামনে ছিল ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার কাজ। পরবর্তী প্রজন্মের সামনে ছিল দেশ গঠন।
আজকের প্রজন্মের সামনে রয়েছে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা, বৈষম্য কমানো, শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ বাড়ানো, পরিবেশ রক্ষা করা এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্ব।
১৫ আগস্ট আমাদের সেই দায়িত্বের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

আজ ১৫ আগস্ট ২০২৬। ভারত স্বাধীনতার ৮০তম বছরে পদার্পণ করেছে।
১৯৪৭ সালের সেই প্রজন্মের অধিকাংশ মানুষ আজ আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু তাঁদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং স্বপ্নের উত্তরাধিকার আজও আমাদের হাতে রয়েছে।
আমরা যে স্বাধীন দেশে জন্মেছি, যে সংবিধানের অধীনে নাগরিক অধিকার ভোগ করি, যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিজের মত প্রকাশ করতে পারি—এসবের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।
তাই স্বাধীনতা দিবসে শুধু শুভেচ্ছা জানানোই যথেষ্ট নয়। ইতিহাস জানা দরকার। স্বাধীনতার মূল্য বোঝা দরকার। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা দরকার। দেশভাগের বেদনাও মনে রাখা দরকার।
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—স্বাধীন ভারতের ভবিষ্যৎ নির্মাণে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন হওয়া দরকার।
স্বাধীনতা অর্জন করা কঠিন ছিল। কিন্তু সেই স্বাধীনতাকে অর্থপূর্ণ করে তোলা আরও বড় দায়িত্ব।
১৫ আগস্ট তাই শুধু অতীতের একটি দিন নয়। এটি একটি স্মৃতি। এটি একটি গর্ব। এটি একটি দায়িত্ব। এটি ভবিষ্যতের প্রতি একটি প্রতিশ্রুতি।
১৯৪৭ সালে ভারত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। তারপর শুরু হয়েছিল নতুন ভারত নির্মাণের যাত্রা।
আজ সেই যাত্রার দায়িত্ব আমাদের হাতে।
তাই স্বাধীনতা দিবসে আমরা শুধু অতীতকে স্মরণ না করে ভবিষ্যতের ভারত কেমন হবে, সেই প্রশ্নও নিজেদের সামনে রাখি।
একটি এমন ভারত, যেখানে মানুষের মর্যাদা থাকবে। যেখানে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। যেখানে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য থাকবে। যেখানে শিক্ষা ও সুযোগের দরজা আরও বেশি মানুষের জন্য খুলে যাবে। যেখানে ধর্ম, ভাষা, অঞ্চল বা পরিচয়ের কারণে মানুষ একে অন্যের শত্রু হবে না। এবং যেখানে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হবে।
এই হোক ১৫ আগস্টের অঙ্গীকার।
এই হোক স্বাধীনতা দিবসের প্রকৃত শিক্ষা।
জয় হিন্দ।











